আরএএইচ -66 কোমঞ্চ হ'ল সেনাবাহিনীর পরবর্তী প্রজন্মের সশস্ত্র অনুসন্ধান হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটির প্রাথমিক ভূমিকাটি হ'ল রাতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীর সন্ধান এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এটি এই ভূমিকাটির জন্য বিশেষায়িত উন্নত প্রথম হেলিকপ্টারও।
তবে চতুর চেহারার স্টিলথ হেলিকপ্টারটির মাত্র দুইটি উড়ন্ত প্রটোটাইপ তৈরি করতেই ২০০৪ সালে আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধের ফলে অতিরিক্ত ব্যায়, বাজেট ঘাটতি, রাজনৈতিক এবং স্ট্রাটেজিক কারনে সেনাবাহিনী এর উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কিন্তু ততদিনে এর উন্নয়নের পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের চলে গেছে মূল্যবান ২২টি বছর এবং প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুটি প্রোটোটাইপ এখন আলাবামার ফোর্ট রাকারে সেনাবাহিনীর বিমান চলাচল জাদুঘর প্রদর্শিত হয়।
🔰 চলুন এক নজরে জেনে নিই আরএএইচ -৬৬ কোমঞ্চ স্টিলথ্ হেলিকপ্টারের খুটিনাটি -
👉 বোয়িং হেলিকপ্টার সংস্থা এবং সিকরসকি এয়ারক্রাফ্ট বিভাগ যৌথ উদ্যোগে হেলিকপ্টারটি তৈরি হয়।
👉 এটি লম্বায় ৪৬.৭৮ ফুট (রটার টার্নিং), চওড়ায় ৩৯.০৪ ফুট (রটার টার্নিং) এবং সামগ্রিকভাবে এর উচ্চতা ১১.০ ফুট।
👉 দুই জন ক্রু অর্থাৎ দুই আসন বিশিষ্ট্য এ বিমানটিতে দুটি ৮০০ ও ১৪৪০ এসএইচপি গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন (টার্বোশ্যাফট এঞ্জিন) রয়েছে।
👉 এটি ঘন্টায় ৩৩০ কিমি অর্থাৎ ১৭২ নট পর্যন্ত গতিবেগে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম।
👉 এটি খালি অবস্থায় ৭,৭৬৫ পাউন্ড এবং কম্ব্যাট মিশনের সময় এটি সর্বোচ্চ ১০,৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারবে।
👉 এটি স্টেলথ টেকনোলজি সমৃদ্ধ। এটির শরীরের ডিজাইন এমন ভাবে করা হয়েছে যাতে এরা সহজেই রাডারকে ফাকি দিতে পারে। হেলিকপ্টারের পাখার ওয়েক সিগ্নেচার, শব্দ, রাডার এবং হিট সিগ্নেচার একে শত্রুর কাছে এর অবস্থান পরিস্কার করে। এর জন্য শব্দ কমাতে তৈরি করা হয়েছে ৫ পাখার অত্যাধুনিক মেইন রোটর। হিট সিগ্নেচার কমানোর জন্য টেইল রোটরের পাশ থেকে এক্সহস্ট গ্যাস বের হয় ফলে টেইল রোটরের ঠান্ডা বাতাসে তা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। একারনে এর হিট সিগনেচারও অনেক কম। সেই সাথে ওয়েক সিগ্নেচার কমানো হয়েছে লেজের রোটরের ডিজাইনের দ্বারা।
👉 কোমঞ্চের হেড-অন RCS হ'ল এএইচ -৪৪ অ্যাপাচি থেকে ৩ গুণ ছোট, ছোট ওএইচ -৮৮ ডি কিওয়া ওয়ারিয়রের চেয়ে ২৫০ গুণ কম এবং ওএইচ -৫৫ ডি এর মাস্ট-মাউন্টযুক্ত দর্শন থেকে ৩২ গুণ কম। এর অর্থ হল কোমঞ্চে আপাচের চেয়ে শত্রু রাডারের কাছে পাঁচগুণ বা ওএইচ -৫৫ ডি এর চেয়ে চারগুণ কাছাকাছি আসতে সক্ষম হবে।
👉 এটি এয়ার-টু-গ্রাউন্ড এবং এয়ার-টু-এয়ার লড়াইয়ের ক্ষমতা সম্পন্ন স্কাউট এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
👉 কোমঞ্চ মিশন ইকুইপমেন্ট প্যাকেজটিতে একটি ট্যুরেট-মাউন্টড কামান, নাইট-ভিশন পাইলট ব্যবস্থা, হেলমেট মাউন্টেড ডিসপ্লে, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেট অর্জন এবং ডেজিগনেশন সিস্টেম, এইডেড টার্গেট সনাক্তকরণ, এবং সংহত যোগাযোগ / নেভিগেশন / সনাক্তকরণ এভিওনিক্স সিস্টেম রয়েছে।
👉 লক্ষ্যবস্তুতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ফরোয়ার্ড-লুকিং ইনফ্রারেড (এফএলআইআর) সেন্সর, একটি কম আলোতে দৃশ্যমান মনিটর, একটি লেজার রেঞ্জ সন্ধানকারী এবং ডিজাইনার এবং অ্যাপাচি লংবো মিলিমিটার ওয়েভ রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
👉 এর ডিজিটাল সেন্সর, কম্পিউটার এবং সফ্টওয়্যার শত্রুকে কোমঞ্চের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার অনেক আগে থেকেই তাদের ট্র্যাক করতে পারবে যা আক্রমণ ও প্রতিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই গুরত্বপূর্ণ কৌশলগত দিক।
👉 এটি প্রতি মিনিটে ৫০০ থেকে ৬০০ ফিট উপরে উঠতে পারে, সেই সাথে ৫ সেকেন্ডে ১৮০ ডিগ্রি টার্ণ নিতে পারে।
👉 এটির মনিটরিং সিস্টেম অত্যন্ত উন্নত আর ব্যাক আপ সিস্টেমও আছে সেই সাথে এটি ডাটা লিঙ্ক ইউজ করে এর লক্ষ্য বা টার্গেটকে ফ্রেন্ডলি যুদ্ধ বিমানকে অবগত করে কয়েকমূখী আক্রমণ রচনা করতে পারে।
👉 এর ভিতরে ওয়েপন্স বে রয়েছে যাতে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিকভাবে XM301 20 মিমি কামান এবং ১৪ টি হেলফায়ার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, 28 এয়ার-টু-এয়ার স্টিংগার (এটিএস) বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র, বা ৫৬২.৭৫ ইঞ্চির হাইড্রা ৭০ এয়ার টু গ্রাউন্ড রকেট রয়েছে। এছাড়া চারটি হেলফায়ার এবং দুটি এয়ার-টু এয়ার স্টিংগার (এটিএস) মিসাইল পুরোপুরি প্রত্যাহারযোগ্য অস্ত্রের উপায়ে স্টোভ করা রয়েছে এবং বন্দুকটি ঘোরানো যায় এবং যখন ব্যবহার না করা হয় তখন বারানটির পিছনে একটি ফেয়ারিংয়ের মধ্যে স্টোভ করা যায় এবং ল্যান্ডিং গিয়ারটি পুরোপুরি প্রত্যাহারযোগ্য ও মুভেবল।
👉 কোমঞ্চে রাসায়নিক বা জৈবিক হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য একটি ক্রু বগি সজ্জিত করা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষতির বিরুদ্ধে একটি এয়ারফ্রেম স্থিতিস্থাপক, ক্রাশ করার সময় ঝুকি কম এবং বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয় হস্তক্ষেপের জন্য সংবেদনশীলতা হ্রাস করা হয়েছে।


No comments: