টিপস এন্ড ট্রিকস

[টিপস এন্ড ট্রিকস][bsummary]

সফ্টওয়ার

[সফ্টওয়ার][bleft]

কম্পিউটার টিপস

[কম্পিউটার টিপস][twocolumns]

স্মার্টফোন টিপস

[স্মার্টফোন টিপস][twocolumns]

সোকত্রা দ্বীপ - পুথিবীর মধ্যেই ভিন্ন কোন গ্রহ

 ইয়েমেনের সোকত্রা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপের উদ্ভিদ, প্রাণিজগৎ পর্যবেক্ষণ করে যে কেউ বলবে, এটি আসলেই পৃথিবীর কোনো অংশ নয়। হয়তো অন্য কোনো পৃথিবী থেকে খুলে পৃথিবীতে এসে পড়া একটি ভূখণ্ড। এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে অনেকে তো দাবিই করে বসেন, এটি আসলে স্বর্গেরই খুলে পড়া ছোট্ট একটা অংশ।

সোকত্রার জীববৈচিত্র্য খুবই বিচিত্র। সর্বত্র সুগন্ধে ভরা এই দ্বীপ যে কারো পক্ষেই ছুটি কাটানোর প্রিয় একটি স্থান হতে পারে।

ধারণা করা হয়, প্রায় ৬০ লাখ বছর আগে এই দ্বীপের জন্ম। এখানে প্রাণিজগতের প্রায় ৯০০ প্রজাতির বাস। তবে অবাক ব্যাপারটি হলো, এই ৯০০ প্রজাতির বেশির ভাগই সোকত্রা ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায় না।

এখানের একটি উদ্ভিদের নাম ড্রাগনস ব্লাড বা ড্রাগনের রক্ত। ক্রিস্টাল পদার্থ তৈরিতে এই উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।

পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের প্রতীক রূপে এখনো টিকে আছে অদ্ভুত এই গাছটি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একসময় এটা সারা বিশ্বের কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী অঞ্চলের বনভূমিগুলোতে পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে তা হারিয়ে, সকোত্রা ও কেনারী আইল্যান্ডে সামান্য কিছু গাছের অস্তিত্ব রয়েছে।
ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি’ দেখতে খানিকটা উল্টানো ছাতার মতো। হঠাৎ দেখে বৃহৎ আকৃতির ব্যাঙের ছাতা ভেবে ভুল করাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই গাছটির রয়েছে আরো একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য, যা আপনাকে চমকে দিতে পারে।

ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি

ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি’ কাটলে রক্ত বের হয়। রক্তের মতো দেখতে হলেও, আসলে একে রক্ত বলা ঠিক হবে না। ‘ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি’ কাটলে যে রেজিন বের হয় তাতে অধিক মাত্রায় আয়রন অক্সাইড রয়েছে। অবশ্য আমাদের রক্তও এই একই কারণে লাল হয়ে থাকে। মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড থাকায় সেটা লাল হয়।

ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি

‘ড্রাগন্স ব্লাড ট্রি’ ছাড়াও এই দ্বীপে রয়েছে বোতল গাছ সহ অদ্ভুত সব উদ্ভিদ এবং প্রাণী। এখানে বিরল প্রজাতির অনেক পশুপাখির দেখা মেলে, এদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রাণীই কেবল সকোত্রাতেই বসবাস করে। দ্বীপটিতে মোট প্রায় ১৪০ প্রজাতির পাখি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ প্রজাতি শুধু সকোত্রাতেই দেখা যায়; এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সকোত্রা চড়ুই, সকোত্রা স্টার্লিং, সোনালি ডানার গ্রসবেক সানবার্ড, বান্টিং ইত্যাদি।

ডেজার্ট রোজ’ বা মরুভূমির গোলাপ

সকোত্রা দ্বীপের অদ্ভুত আরেকটি ব্যপার হলো, এখানে কোনো উভচর প্রাণী নেই এবং স্তন্যপায়ীও প্রায় নেই বললেই চলে। মানুষ ছাড়া এই দ্বীপটিতে স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে বাদুড়। তবে সরীসৃপের সংখ্যা অনেক। এই দ্বীপের সরীসৃপগুলোর ৯০ শতাংশকেই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
সকোত্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস রয়েছে এবং গ্রাম রয়েছে ৬০০টি। এখানকার গ্রামগুলো খুবই ছোট; অধিকাংশ গ্রামই একটি মাত্র বড় পরিবার নিয়ে গঠিত।
এ ছাড়া এখানে রয়েছে ‘ডেজার্ট রোজ’ বা মরুভূমির গোলাপ, যা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আরো আছে এলিফ্যান্টস লেগ বা হাতির পা।

এলিফ্যান্টস লেগ বা হাতির পা

প্রাচীন গন্ধি গাছ-পালা এবং পৃথিবীর অন্য স্থানের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা আবহাওয়ার কারণে ২০০৮ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই করে নেয়।

 

No comments:

তথ্য কণিকা

[তথ্য কণিকা][bsummary]

ব্যাংকিং টিপস

[ব্যাংকিং টিপস][bsummary]

টেক ইনফো

[টেক ইনফো][twocolumns]