প্রকৃতি সব সময়ই নিজেকে খাম খেয়ালিতে অসাধারণ কিছু রহস্যে ঘিরে আছে, যেগুলো মানব-মস্তিষ্কের কাছে দুর্বোধ্য। মানুষের চিন্তা থেমে যেতে পারে কিন্তু প্রকৃতি তার রহস্য বোনা থামায় না। তেমনি প্রকৃতির অন্যতম সেরা নিহিত রহস্য বলা যায় ‘জেনারেল শেরম্যান’ কে।
‘জেনারেল শেরম্যান’ আমাদের ধরনীর সবচেয়ে বৃহৎ জীবিত বৃক্ষের নাম। এর বয়স কত? অনুমান করুন। না থাক, অনুমানে কুলাবে না। এর বয়স প্রায় দুই হাজার বছর। লম্বায় এটি ২৭৪ দশমিক ৯ ফুট লম্বা। এর ব্যাস ২৫ ফুট ও মোট আয়তন ৫২ হাজার ৫০০ ঘনফুট অর্থাৎ গাছের গুঁড়ির ঘনত্ব প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কিউবিক ফুট। এমনই বিশাল চেহারা তার। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সবচেয়ে বৃহত্তম জীব মনে করা হয় এই বৃক্ষকে।
![]() |
| পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সবচেয়ে বৃহত্তম জীব ‘জেনারেল শেরম্যান’ নামের একটি গাছ। |
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের টুলারি কাউন্টিতে সেকোইয়া ন্যাশনাল পার্কের জায়ান্ট ফরেস্টে রয়েছে এই গাছটি। পাহাড়ি বনভূমির সুরক্ষায় ৪ লাখ ৪ হাজার ৬৪ একর জায়গা জুড়ে ১৮৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এ উদ্যানটি গড়ে তোলা হয়। গাছটি দেখতে খানিকটা লালচে। আদতে এটি একটি সেকুইয়া প্রজাতির রেডউড বৃক্ষ।
এবার বলা যাক গাছটির নাম করনের ইতিহাস। জেনারেল উইলিয়াম টিকামসা শেরম্যান নামের এক সেনা অফিসার আমেরিকান সিভিল ওয়ারে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জেনারেল শেরম্যান’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর অধীনেই নাইনথ ইন্ডিয়ানা ক্যাভারলিতে ছিলেন জেমস উলভারটন। প্রথমে সৈনিক থাকলেও, প্রকৃতির দিকে তাঁর ব্যাপক ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে সেই নিয়েই পড়াশোনা তাঁর। তিনি ১৮৭৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এই বিশাল বড়ো, পুরনো গাছটির নাম দেন শেরম্যানের নামে। জন্ম হয় ‘জেনারেল শেরম্যান’-এর।
![]() |
| জেনারেল শেরম্যান |
তার কয়েক বছর পর ১৮৮৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই বিশেষ অঞ্চলটি কাওয়েয়া গোষ্ঠীর অধীনে চলে আসে। কয়েকবছর ওই জায়গায় থাকে তারা। ওইসময় এই গাছটি, অর্থাৎ ‘জেনারেল শেরম্যান’-এর নাম বদলে হয়ে যায় ‘কার্ল মার্ক্স’। ১৮৯২ সালে ওই সম্প্রদায় বিলীন হওয়ার পর গাছটি পুরনো নাম ফিরে পায়। তারপর থেকে আজও সেই নামটিই চলছে।



No comments: